1. admin@bartasamahar.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের দাসত্বের জীবন যাপন

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ৯০ বার পঠিত

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: উন্নত ও একটি ভালো জীবনের আশায় দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি দেন অনেক বাংলাদেশি। যাদের অনেকেই অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য প্রথমেই লিবিয়ায় যান তারা, এরপর পাচারকারীদের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে ঢোকার চেষ্টা করেন। আর এ যাত্রায় লিবিয়াতে তাদের অনেককেই নানাবিধ প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে। জিম্মি হতে হচ্ছে, এমনকি বরণ করতে হচ্ছে দাসত্বের জীবন। বাংলাদেশিদের লিবিয়ায় এমন অভিজ্ঞতা আর দুর্দশা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ঐ প্রতিবেদনে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ইতালির পার্লেমোতে বাংলাদেশি তরুণ আলি (ছদ্মনাম) বিবিসির সংবাদদাতাকে জানান, ২০১৯ সালে ১৯ বছর বয়সে তিনি কাজের খোঁজে লিবিয়ায় উদ্দেশ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এক যাত্রা শুরু করেন। এক দালালের সঙ্গে দেখা হওয়ার পরই আলি এ ব্যাপারে উৎসাহী হন। প্রকৃতপক্ষে এই দালালেরা হলেন মানবপাচারকারী। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ফাঁদ পেতে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ বাংলাদেশিদের আকৃষ্ট করে থাকেন তারা।

আলি জানান, এক দালালের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল তার। ঐ দালাল তাকে ক্রমাগত লিবিয়া যেতে উৎসাহ দেন। আলির মতো অনেক তরুণ, যারা আর্থিক অনটন থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় বিদেশে যেতে চায় মূলত তারাই হন দালালদের টার্গেট। অথচ এসব তরুণের বেশির ভাগই জানেন না, লিবিয়া এখন ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত এক দেশ। সুদীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে লিবিয়ায় যাওয়া মানুষদের দুর্দশা, নির্যাতন, নিপীড়ন ও দাস হয়ে থাকার বিষয়টি অনেকেই জানেন না। আলি নিজেও এ কথা স্বীকার করেছেন।

আলির বাবা-মা দালালের উসকানিতে সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলেকে পাঠায়। প্রথমে ঢাকা থেকে বাসে কলকাতা। পরে বিভিন্ন ফ্লাইটে মুম্বাই, দুবাই, কায়রো হয়ে লিবিয়ায় যান আলি। লিবিয়ার বেনগাজি বিমানবন্দরে নেমে আলি পুরো বিশৃঙ্খল এক শহর দেখতে পান। বিমানবন্দরে নামার পরই একদল লোক তাকে নিয়ে যায়। এসব লোক সেখানে দালালদের হয়ে কাজ করেন। তারা বিমানবন্দর থেকে আলিকে এক কারাগারে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর তারা আলির কাছে থাকা অবশিষ্ট টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। এরপর মুক্তিপণ আদায়ের জন্য তাকে সেখানে আটকে রাখে। এরপর লিবিয়ায় কারাগারে ছেলে আটক থাকার খবর পান আলির বাবা-মা। ছেলেকে মুক্ত করার জন্য বাড়িতে থাকা শেষ দুটি গরুও বিক্রি করে দেন তারা।

আলি আরও জানান, ছোট একটি ঘরে তাকে বন্দি করে রাখা হয়। যেখানে শোয়ার মতো কোনো বিছানাও নেই। ঐ কক্ষে তার মতো আরো ১৫ জন বাংলাদেশি ছিল। তাদের মধ্যে যারা মুক্তিপণের টাকা দিতে পারেননি, তাদের খেতে দেওয়া হতো না, নানাভাবে অত্যাচার ও নিপীড়ন চালানো হতো। আলি মুক্ত হওয়ার পর বেনগাজিতে একটি পানি বোতলজাত কারখানায় তিন মাস মানবপাচারকারীদের জন্য কাজ করেন। পাচারকারীদের হাত থেকে কোনোমতে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি চলে যান রাজধানী ত্রিপোলিতে। সেখানে গিয়ে একটি টালি কারখানায় কাজ করতে শুরু করেন। বর্তমানে লিবিয়ায় থাকা আনুমানিক ২০ হাজার বাংলাদেশির অনেকের মতো আলিও অত্যাচারিত হয়েছেন। বেতন ও ছুটি ছাড়া অমানবিক ভাবে কাজ করেছেন।

এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে আলি কয়েকবার পালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে লিবিয়ার এক নাগরিক আলিকে পালিয়ে একটি মসজিদে আশ্রয় নিতে সাহায্য করেন। এরপর পাচারকারীদের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন আলি। সিদ্ধান্ত নেন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার। এজন্য দেশে বাবা-মায়ের কাছ থেকে আবারও টাকা নেন। গত বছরের জুলাইতে ভূমধ্যসাগর পাড়ির ঘটনা আলির ও ডিঙি নৌকায় থাকা অন্য ৭৯ অভিবাসীর জন্য আরেকটি ভয়ংকর অগ্নিপরীক্ষা ছিল।

আলী বলেন, পুরো দুই দিন সাগর ছাড়া আমরা আর কিছুই দেখছিলাম না। হঠাত্ আমাদের কাছেই দুটি হাঙর দেখতে পেলাম। ঐ সময় কেউ কেউ বলতে শুরু করলো—হাঙর গুলো আমাদের খেয়ে ফেলার জন্য আসছে। আমি তখন মনে করেছিলাম, এবার বুঝি আমরা শেষ। কূলে ভেড়ার পর ইতালির উপকূলীয় শহর সিসিলিতে স্থানান্তরের আগে ল্যাম্পেডুসা নামের একটি দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয় আলিদের। সিসিলির রাজধানী পালের্মোর অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে তার সঙ্গে অন্য অনেক দেশের এমন অনেক তরুণও রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Barta Samahar
Theme Customized By Theme Park BD