1. admin@bartasamahar.com : admin :
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

শেষতক শাবিপ্রবি উপাচার্য দুঃখ প্রকাশ করলেন

  • আপডেট সময় : শনিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ৭২ বার পঠিত

বার্তা সমাহার মহানগর প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

আজ শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দুঃখ প্রকাশ করেন।

এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য বলেন, আমাদের প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ যারা আহত হয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ওই ঘটনার ধারাবাহিকতায় সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুন্দর ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন শাবিপ্রবি উপাচার্য।

উপাচার্য আরও বলেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমাদের এ প্রিয় প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা সম্ভব হবে।

গতকাল শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য কার্যালয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে আলোচনার পর ওই ঘটনার জন্য উপাচার্যকে দুঃখ প্রকাশ করার পরামর্শ দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। প্রায় ২৬ দিন পর বৈঠক ঘিরে এদিন নিজ বাসভবন থেকে বের হন উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। একইদিন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ১২ সদস্যর একটি প্রতিনিধি দল।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে উপাচার্যবিরোধী চলমান আন্দোলন একদিনের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। বৈঠক-পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে শনিবার বিকেলে সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে বসার কথা জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, ঘটনার সূত্রপাত শাবিপ্রবির বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হল নিয়ে। গত বছরের ২৫ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আবাসিক হল খুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৯ মাস পর ওইদিন থেকে হলে ফিরতে শুরু করেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ফেরার পর হলে তারা বিভিন্ন সংস্কার দেখতে পান। পাশাপাশি বেশকিছু নতুন নিয়মনীতি ও সমস্যার সম্মুখীন হন বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের আবাসিক ছাত্রীরা।
এরপর থেকে হলের এসব নিয়মনীতি, সিট বণ্টন, খাবার সমস্যা, ওয়াইফাই সমস্যা, পানির সমস্যা, বাইরের হোস্টেলের ভাড়া নিয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হল প্রভোস্ট বডির দূরত্ব বাড়তে থাকে। ছাত্রীদের অভিযোগ, এসব বিষয়ে অভিযোগ করে প্রভোস্ট বডির ‘অসদাচরণের’ শিকার হয়েছেন তারা।

এসব কারণে গত ১৩ জানুয়ারি থেকে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এরপর ১৬ জানুয়ারি বিকেলে তিন দফা দাবি আদায়ে উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইআইসিটি ভবনে অবরুদ্ধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ উপাচার্যকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে।
এরপর শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় উপাচার্যকে দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবি করে এতদিন আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৬ জানুয়ারি) টানা সাতদিনের অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Barta Samahar
Theme Customized By Theme Park BD