1. admin@bartasamahar.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট: যুদ্ধে রাশিয়ার জয়-পরাজয়ের সমীকরণ

  • আপডেট সময় : শনিবার, ৫ মার্চ, ২০২২
  • ১০৬ বার পঠিত

বার্তা সমাহার অনলাইন ডেস্ক: চলমান সংকটময় সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণের দশম দিন আজ। গত মাসের ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিনের ঘোষণার পরই দেশটিতে আক্রমণ করে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনও গড়ে তুলেছে কঠিন প্রতিরোধ। চলছে তুমুল লড়াই। ইতিমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখলে নিয়েছে রাশিয়া। চলছে রাজধানী কিয়েভ দখলের অভিযান। যেখানে অবস্থান করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। দেশটির সামরিক অধিদপ্তরের অবস্থানও এখানে।

সাম্প্রতিক এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের অধিবেশনে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে ১৪১টি দেশ, বিপক্ষে দিয়েছে ৩৫টি দেশ এবং ৫টি দেশ ভোট দানে বিরত রয়েছে।

যুদ্ধ মানেই অনিশ্চয়তা। জয় পরাজয়ের ফলাফল পাওয়া যায় যুদ্ধের শেষে। বর্তমানে চলমান রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধও চলছে এক অনিশ্চয়তায়। যদি চলমান যুদ্ধে পুতিনের জয় হয় তাহলে কি আছে রাশিয়ার ভাগ্যে? আর পরাজয়েই বা কী ফল ভোগ করতে হবে দুনিয়ার দ্বিতীয় শক্তিশালী দেশটিকে?

পৃথিবীর বর্তমান দ্বিতীয় শক্তিধর দেশ। সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্রও রয়েছে দেশটির কাছে। তাদের রিজার্ভ সেনাসংখ্যা ৩৬ লাখ। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, দুই লাখ সেনা অংশ নিয়েছে ইউক্রেন আক্রমণে । তার মানে রাশিয়া তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করছে না।

অপরদিকে, যুদ্ধের প্রথমে পশ্চিমারা ইউক্রেনের সঙ্গে থাকার কথা বললেও মূল যুদ্ধে তারা কোন সেনা সহায়তা করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জিলেনস্কিকে। অবশ্য সেনা সহায়তার কোন পথও খোলা নেই পশ্চিমাদের কাছে। ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের সেনাসহায়তা মানেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। রাশিয়া ইতিমধ্যে জানিয়েই দিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ন্যাটো ইউক্রেনে সেনা সহায়তা পাঠায় তাহলে পারমাণবিক আক্রমণ করবে তারা। পোল্যান্ড, জার্মানি ইউক্রেনকে যে কিছু অস্ত্র সহায়তা করেছে তা রাশিয়ার শক্তির সামনে খুবই নগণ্য।

এদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তাদের একার পক্ষে রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে জয় সম্ভব নয়। সুতরাং এই যুদ্ধে রাশিয়ার জয় নিশ্চিত। যুদ্ধে রাশিয়ার জয় হলেও, ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত। বাইরের দেশ গুলোর সঙ্গে তারা ব্যবসা করতে পারবে না। ডলারে লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ দেশটির। বাংলাদেশের চেয়েও কমে গেছে তাদের টাকার মান। কিন্তু পশ্চিমারা এই নিষেধাজ্ঞা কতদিন বহাল রাখতে পারবে, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। কারণ, ইউরোপের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ রাশিয়া। তাদের জ্বালানি, গ্যাস ও খাবারের উপর অন্তত ১০০টি দেশ নির্ভর করে। জার্মানির ৭০ ভাগ গ্যাস আসে রাশিয়া থেকে। মধ্যপ্রেচ্যের বহু ধনী দেশ তাদের খাবারের উপর নির্ভর করে। ফ্রান্সের সঙ্গে রাশিয়ার রয়েছে বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এমনকি রাশিয়ার খনিজ সম্পদে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে রেখেছে তুরস্ক। চীনতো আগে থেকেই রাশিয়ার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে তার ৯০ ভাগ বিনিয়োগ রাশিয়ার। যার পরিমাণ ১ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা।

যতই বলা হোক ইউরোপে ৩৬টি দেশ তাদের আকাশসীমায় বিমান চলতে দিবে না। এই ৩৬টি দেশ তিনবার একত্র করলেও রাশিয়ার সমান হবে না। রাশিয়াও তাদের আকাশসীমা ইউরোপের অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেবে না। সুতরাং এই নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়াকে বেশি দিন আটকে রাখা যাবে বলে মনে হচ্ছে না।

ইতিমধ্যে ফ্রান্স, তুরস্ক অনেকটাই স্পষ্ট করেছে তারা রাশিয়াকে ছাড়তে পারবে না। রাশিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্যম দেশ, দ্বিতীয় সামরিক শক্তির তকমাটাও তাদের। পশ্চিমারা যতই রাশিয়াকে আটকানোর চেষ্টা করুক, খুব একটা সফলতা পাবে বলে মনে হচ্ছে না।

এ অবস্থায় রাশিয়া ইউক্রেনে তাদের সেনা বহাল রাখবে। এমন কাউকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট করবে, যে রাশিয়ার কথায় উঠবে বসবে। পুরো ইউক্রেনে আবার রুশপন্থি নীতি চালু হবে, কিন্তু যদি রাশিয়া যুদ্ধে হেরে যায় তাহলে কী হবে পুতিন ও দেশটির ভাগ্যে?

রাশিয়া যুদ্ধে হারতে পারে একটি সমীকরণে আর তা হলো যদি আমেরিকা আর ন্যাটো সরাসরি এক হয়ে যদি যুদ্ধে জড়ায়, কিন্তু তা হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যেখানে দেখা যাবে, পারমাণবিক অস্ত্রের নিশ্চিত ব্যবহার। রাশিয়া তখন তাদের পূর্ণ শক্তির ব্যবহার করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

রাশিয়ানরা মনে করে, পৃথিবীতে যদি রাশিয়াই না থাকে তাহলে পৃথিবীই বা থাকার প্রয়োজন নেই। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে রাশিয়াতে আক্রমণ করলে ফলাফল কী হবে। আমেরিকা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশ হলেও রাশিয়ার অবস্থান দ্বিতীয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাশিয়া আমেরিকার চেয়ে এগিয়ে আছে। পারমাণবিক শক্তির বিবেচনায় রাশিয়ার অবস্থান এক নম্বর। আর কূটনীতিতে বাইডেন-ট্রাম্পের চেয়ে পুতিন অনেকটাই যে এগিয়ে, যা ইতিমধ্যে প্রমাণিত।

রাশিয়ার কাছে ১৩ হাজারেও বেশি আধুনিক যুদ্ধ ট্যাংক, ২৭ হাজার সেনা বহনের সাজোয়া যান, ৪৪ হাজার ৬৫টি আর্টিলারি গান এবং সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে ৬ হাজার দুইশত ৫৫টি পারমাণবিক বোমাসহ রয়েছে আর৩৬ নামের ব্যালেস্টিক মিসাইল। এই মিসাইল আবার পারমাণবিক বোমা বহনে সক্ষম। মাত্র ১০ মিনিটে প্রস্তুত হয়ে ১৬ হাজার কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম এসব মিসাইল। যা রাশিয়া থেকে সারা পৃথিবীতে আঘাত হানতে পারবে। এছাড়াও “ফাদার অফ অল বম্ব” নামে এক ধরণের বোমা রয়েছে তাদের কাছে। যা পারমাণবিক বোমা না হলেও, শক্তিতে কোন অংশেই কম নয়।

অপরদিকে যুদ্ধে রাশিয়ার বন্ধু রাষ্ট্রগুলো তার পক্ষে এগিয়ে আসবেই। এ তালিকায় চীন, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের নাম আসবে সবার আগে।

তাহলে, আমেরিকা জোট যদি রাশিয়া আক্রমণ করে পৃথিবী আবার দেখবে বিশ্বযুদ্ধের নির্মম ভয়াবহতা, যা হবে আগের যেকোন যুদ্ধের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক। যার প্রভাব পড়বে সারা পৃথিবীর জীবনমানে। বাংলাদেশও বাদ যাবে না সেই তালিকা থেকে। দ্রব্যমূল্যের দাম হবে আকাশচুম্বী, যা সমগ্র পৃথিবীর জন্য এক অন্ধকারযুগ বয়ে আনবে।

বাস/অন-ডে/এএফপি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Barta Samahar
Theme Customized By Theme Park BD