1. admin@bartasamahar.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন

বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচন: মেয়র প্রার্থীদের চাঞ্চল্যকর আমলনামা

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২
  • ১২৫ বার পঠিত

বার্তা সমাহার অনলাইন ডেস্ক: বিয়ানীবাজার পৌরসভার নির্বাচন আগামী ১৫ জুন। আসন্ন নির্বাচনে মোট ১০জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দের পর তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। সরগরম হয়ে ওঠবে পৌরএলাকার পাড়া-মহল্লা। চায়ের স্টলে আলোচিত হবে মেয়র প্রার্থীদের অতীত-ভবিষ্যতের নানা উপাখ্যান। গ্রামে-গ্রামে বাজবে নির্বাচনী সঙ্গীত। বিভিন্ন বাড়িতে হবে ওঠানবৈঠক। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা শুরু করবে। যদিও ভোটের মাঠে ছায়াও রাখেনি রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি। স্বতন্ত্রের ব্যানারেও তারা মাঠে নেই।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়রপদে প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের জীবনবৃত্তান্ত উপস্থাপন করেছেন। হলফ করে বলেছেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, সম্পদের বিবরণ, মামলা এবং অতীত-বর্তমানের সার্বিক অজানা কথা। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরমের পাশাপাশি পৃথক স্ট্যাম্পে জানিয়েছেন তারা কি করেন, আগে কি করতেন। মেয়রপ্রার্থীদের সেইসব কীর্তিকলাপ নিয়ে আগামী প্রজন্ম’র এ প্রতিবেদন।

আওয়ামীলীগের প্রার্থী মো. আব্দুস শুকুর: নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন মো. আব্দুস শুকুর। তিনি বর্তমান মেয়র এবং উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক। এইচএসসি উত্তীর্ণ এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। নিজের একটি গাড়ি আছে। ব্যাংকে ১ লাখ এবং নগদ আরো দেড় লাখ টাকা রয়েছে তার। স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং আরো দেড় লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। পৌর এলাকার খাসা গ্রামের মো. আব্দুছ ছালাম ও ময়জুন নেসার ছেলে তিনি। পেশায় একজন ঠিকাদার।

মো. তফজ্জুল হোসেন: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন তিনি। গত নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্ধিতা করে পরাজিত হন। এর আগে দীর্ঘমেয়াদে বিয়ানীবাজার পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন তফজ্জুল হোসেন। তিনি স্বশিক্ষিত এবং নগদ দেড় লাখ টাকার মালিক। এছাড়াও ব্যাংকে তার আরো ১ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ২ লাখ এবং ব্যবসা থেকে আয় আড়াই লাখ টাকা। তিনি শহীদ তাহির আলী ও ছয়দুন নেসা বেগমের ছেলে।

মো. ফারুকুল হক: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন তিনি। এর আগে অবশ্য আওয়ামীলীগের দলীয় প্রতীক নৌকা চেয়েও পাননি। বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক এই জিএস এইচএসসি উত্তীর্ণ। পেশায় ঠিকাদার এই প্রার্থী নগদ ২ লাখ টাকার মালিক। এছাড়াও তিনি কৃষিখাত থেকে ২০ হাজার এবং ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ২০হাজার টাকা বার্ষিক আয় করেন। স্ত্রীর নামে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং তার নামে ১ লাখ ৬০ হাজার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। তিনি কসবা গ্রামের হুরমত আলী ও ছুরেতুন নেসার ছেলে।

আহবাব হোসেন সাজু: তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। আওয়ামী ঘরানার এই প্রার্থী বিগত দিনে পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এইচএসসি পাশ এই প্রার্থী কলেজ রোডে কাপড়ের ব্যবসা করেন। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তার কাছে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার ও ব্যাংকে আরো ১ লাখ টাকা রয়েছে। কৃষিখাত থেকে তার আয় ৮০ হাজার টাকা। তিনি সুপাতলা গ্রামের জিয়া আহমদ এবং রায়না বেগমের ছেলে। তার স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।

মোহাম্মদ আব্দুস সবুর: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনিও আসন্ন পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। সিলেট নগরীর আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী এই প্রার্থী স্ব-শিক্ষিত। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। কৃষিখাত থেকে তিনি বার্ষিক আয় ৪০ হাজার, বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে ১ লাখ ২০ হাজার ও ব্যবসা থেকে ৯০ হাজার টাকা আয় করেন। তার কাছে নগদ ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে আরো ৫০ হাজার টাকা রয়েছে। তিনি নবাং গ্রামের আব্দুর রহিম ও করিবুন নেসার ছেলে। তার স্ত্রীর নামে ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নিজ নামে আরো ২ লাখ ২০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে।

আব্দুস সামাদ আজাদ: স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। এমএসএস উত্তীর্ণ এই প্রার্থী একটি বেসরকারি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তিসি সুপাতলা গ্রামের মুহাম্মদ মোস্তাবুর রহমান ও রাজিয়া বেগমের ছেলে। চাকরী থেকে তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তার কাছে নগদ ১২ হাজার ও ব্যাংকে ৩৫ হাজার টাকা রয়েছে। এছাড়া নিজের একটি সেলুন কার এবং ৫০ হাজার মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী রয়েছে। তার স্ত্রীর নামে ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নিজ নামে ৩০ শতক অকৃষি জমির কথা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মো. আব্দুল কুদ্দুছ: উপজেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ টিটু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তিনি বিএ (পাস) করে ঠিকাদারী ব্যবসা করছেন। শ্রীধরা গ্রামের মো. আব্দুল খালিক ও আলেয়া বেগমের ছেলে তিনি। মামলাহীন কুদ্দুছের বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়াও কৃষিখাত থেকে তিনি ২০ হাজার টাকা আয় করেন। তার স্ত্রীর নামে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নিজ নামে আরো দেড় লাখ টাকা নগদ রয়েছে।

কমিউনিষ্ট পার্টির প্রার্থী আবুল কাশেম: তিনি দলীয় প্রতীক কাস্তে নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। পেশায় আইনজীবি এই প্রার্থী এলএলবি উত্তীর্ণ। এ পেশা থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকার উপরে। কসবা গ্রামের মো. আব্দুল আজিজ এবং হালিমা বেগমের ছেলে এড. কাশেমের কাছে নগদ ১লাখ ৪৪ হাজার ৯শ’ টাকা রয়েছে। ব্যাংকে তার আরো দেড় লাখ টাকা রয়েছে। যৌথ মালিকানাধীন জমির মধ্যে তার ৭ শতক জমি রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই।

অজি উদ্দিন: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন অজি উদ্দিন। স্ব-শিক্ষিত এই প্রার্থী মার্কেটের ব্যবস্থাপনার কাজে জড়িত। ব্যবসা থেকে তার আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। তিনি কৃষিখাত থেকে বার্ষিক ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। তার নগদ দেড় লাখ এবং ব্যাংকে আরো দেড় লাখ টাকা রয়েছে। তিনি ফতেহপুর গ্রামের ছিফত আলী ও ছায়াতুন নেসার ছেলে।

সুনাম উদ্দিন: জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন তিনি। ৫ম শ্রেণী উত্তীর্ণ এই প্রার্থীর একমাত্র পৈতৃক বাড়ি ছাড়া আর কিছু নেই। ব্যাংকে টাকা নেই স্ত্রীর গয়নাও নেই। তিনি খাসাড়িপাড়া গ্রামের হাজী সরাফত আলী ও ছায়ারুন বেগমের ছেলে।

বাস/অ-পৌনি/তথ্য সৌজন্য: আগামী প্রজন্ম।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Barta Samahar
Theme Customized By Theme Park BD