1. admin@bartasamahar.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:১৯ অপরাহ্ন

আগামী সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টি বিএনপির দিকে টার্ন নিচ্ছে!

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০২২
  • ৬৬ বার পঠিত

বার্তা সমাহার অনলাইন ডেস্ক: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টি। চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ বড় একটি অংশ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পক্ষে। এই বলয়টি কোনভাবেই আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে চান না। তারা ভেতরে ভেতরে বিএনপির সঙ্গে গভীরে যোগাযোগ রক্ষা করার পক্ষে। কারো কারো মতে এই যোগাযোগ বেশ জোরেশোরেই চলছে। কথিত রয়েছে সম্প্রতি জিএম কাদের চিকিৎসার নামে সিঙ্গাপুর সফর করলেও সফরটি ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। একই সময়ে বিএনপির বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছিলেন।

উল্লেখ্য, জিএম কাদের যে ফ্লাইটের যাত্রী হয়েছিলেন, একই ফ্লাইটেও বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। সিঙ্গাপুর সফর শেষে পুরো বক্তৃতার ধরণ পাল্টে ফেলেছেন জিএম কাদের। তিনি অবশ্য অনেকদিন ধরেই বলে আসছেন আমরা আর আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেই। ভবিষ্যতে কোন জোটে যোগদেব সেটি সময় বলে দেবে। তার এসব বক্তব্য অনেক পুরনো হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বক্তব্যকে টার্নিং বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, বছর খানেক আগেও অনেক ইস্যুতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বিপক্ষে বক্তব্য দিতেন। কিন্তু সম্প্রতি এক সুরে বলতে দেখা যাচ্ছে। অতীতে ইভিএম নিয়ে কথা না বললেও হঠাৎ করে বিএনপি সুরে সুর মিলিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান।

গত ১২ মে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির মত বিনিময় সভায় বলেন, ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট নেয়া যুক্তি যুক্ত হবে না। ইভিএম এর নির্বাচনে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না, কারণ ব্যালট পেপার থাকে না। ভোটিং মেশিন যে রেজাল্ট দিবে, তাই ঘোষণা হবে। বিষয়টি হচ্ছে, দেশের মানুষ চাঁদে পাঠাতে চাচ্ছে সরকার কিন্তু সেখানে বসবাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।২০ মে আরেক অনুষ্ঠানে বলেন, ইতিমধ্যেই সরকার প্রধান ঘোষণা করেছেন আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)।

সবগুলো আসনে ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ না করলেও, যে সকল আসনে সরকার দলীয় প্রার্থীরা প্রকাশ্যে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না সেখানে হয়তো ইভিএম-এ ভোট গ্রহণ চলবে। জাতীয় পার্টি প্রহসনের নির্বাচন চায় না।নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে জাপার আগের অবস্থান ছিল বিএনপির ঠিক বিপরীতে। তারা শক্তভাবে তত্বাবধায়কের বিপক্ষে কথা বলতেন। দলটির বক্তব্য ছিল তত্বাবধায়ক সরকার তাদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করেনি। তাই আমরা তত্বাবধায়কের পক্ষে না। কিন্তু হঠাৎই জিএম কাদের সুর পুরো বদলে ফেলেছেন। যদিও কোন ফরমেটের কথা বলেন নি, তবে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় এ কথা স্পষ্ট করেছেন।

২০ মে এক বক্তৃতায় জিএম কাদের বলেছেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারের সামনে প্রশাসন বা সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো অসহায় হয়ে পড়ে। তাই কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে।জিএম কাদের’র এসব কথাবার্তা ইঙ্গিতবহ বলে মনে করছেন।

সম্প্রতি পদ্মাসেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ইস্যুতে একটি ঘটনা বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছেন। আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে বলেছিলেন বরিশাল অঞ্চলের সংসদ সদস্যদের। বরিশাল-৬ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় পার্টির এমপি রতনা আমিন হাওলাদারকেও ডেকেছিলেন আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাপার ওই এমপি ফোনে জিএম কাদের’র পরামর্শ ও যোগদানের অনুমতি চেয়েছিলেন। জিএম কাদের তাকে সাফ জানিয়ে দেন, কোনভাবেই অংশ নেওয়া যাবে না।

এসময়ে সাফ জানিয়ে দেন, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ’র ডাকা সভায় যোগ দিলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। পরে ওই সভায় যোগদান থেকে বিরত থাকেন রতনা আমিন হাওলাদার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাপার একাধিক শীর্ষ নেতা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, বিএনপি জোটে ঝুঁকতে সমর্থন বাড়ছে। তৃণমূলের বড় একটি অংশ চান বিএনপির সঙ্গে জোট হোক। এই মতামতে জিএম কাদের’র সঙ্গে গাটছড়া রয়েছেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অতিরিক্ত মহাসচিব শেখ সিরাজুল ইসলাম, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে নির্বাচিত লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি ও অ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। এই গ্রুপটি মনে করে, আওয়ামী লীগ তাদের সঙ্গে সঠিক আচরণ করেনি।

জাপার সমর্থনের কারণে আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সাল ক্ষমতায় এসেছিল। এরপর ২০০৮ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় রয়েছে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকেও তারা সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত। জাপাকে ভেঙে টুকরো করতে ভূমিকা রেখেছে আওয়ামী লীগ। তাদের ধারণা আগামীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারছে না। তাই তাদের সঙ্গে থাকার কোন মানে হয় না।বিএনপির সঙ্গে জোট করা পক্ষের নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি ও লিয়াকত হোসেন খোকা এমপিকে স্বপক্ষ ত্যাগী বিবেচনা করা হয়। দু’জনেই আওয়ামী লীগঘেষা হিসেবে পরিচিত।

আনিসুল ইসলামের স্বপক্ষ ত্যাগ রহস্যাবৃত হলেও লিয়াকত হোসেন খোকার স্বপক্ষ ত্যাগের বিষয়টি বেশ ওপেন সিক্রেট। হেফাজত নেতা মামুনুল হকের রিসোর্ট কাণ্ডে খোকার ইন্ধন ছিল বলে কথিত রয়েছে। তখন জাপার বেশকিছু নেতাকর্মীর নামে মামলাও হয়। তখন থেকেই সরকারের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে খোকার

আরেকটি বিষয় রয়েছে, সৌদির রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ দেশে ফেরা। রওশন এরশাদের সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত মসিহ জন্মস্থান খোকার নির্বাচনী এলাকায়। গোলাম মসিহ অনেকদিন ধরেই নির্বাচনের জন্য দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। রওশন এরশাদের নেতৃত্বে কিছু ঘটলে খোকার কপাল পুড়তে পারে, আর সরকারের সঙ্গে দূরত্ব রয়েছেই। এসব কারণে খোকা বিএনপির দিকে টার্ন নেওয়ার পক্ষ নিয়েছেন বলে মনে করেন কেউ কেউ।

আরেকটি গ্রুপ রয়েছে যারা আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট গড়ার পক্ষে। এই মতাদর্শের নেতারা রওশন এরশাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলছেন বলে জানা গেছে। মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ এমপি, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, সেলিম ওসমান এমপি, পীর মেজবাহ এমপিসহ অনেকে প্রভাবশালীদের নাম শোনা যাচ্ছে।

দলীয় সুত্র জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনের জোট ইস্যুতে ইতোমধ্যেই সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মত পার্থক্য বাড়তে শুরু করেছে। এক গ্রুপ চাচ্ছেন বিএনপির দিকে ঝুঁকতে, অন্যদল চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে দর কষাকষি করে ভাগ বাড়াতে। ব্যাংককে চিকিৎসাধীন রওশন এরশাদ চলতি মাসেই দেশে ফিরতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। তিনি দেশে ফিরলে মেরুকরণ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।

বিগত কাউন্সিলে রওশন এরশাদকে প্রধান পৃষ্টপোষক করার পক্ষ থেকে জাপার কোন প্রোগ্রামে দেখা যায়নি এরশাদের সহধর্মীনীকে।

অন্যদিকে হঠাৎ করে জিএম কাদের’র এর কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করে গাজীপুর কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে করে জাপা কি আবার ভাঙনের মুখে এমন প্রশ্নই সামনে চলে এসেছে।

বাস/অন.রাজ-৩১/২২

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Barta Samahar
Theme Customized By Theme Park BD