1. admin@bartasamahar.com : admin :
মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৮:৩৩ অপরাহ্ন

হারিয়ে যাচ্ছে সুতায় গেঁথে-চালুনিতে কুরবানির মাংস শুকানো

  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২
  • ৯২ বার পঠিত

বার্তা সমাহার অনলাইন ডেস্ক: যখন রেফ্রিজারেটর ছিল না তখন মানুষ বিভিন্ন উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করতো। বর্তমানের আধুনিক জীবনে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় আমাদের জীবনযাপনেও লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এখন মাংস সংরক্ষণ করার জন্য আমরা সাধারণত ফ্রিজের কথাই ভেবে থাকি। কিন্তু ফ্রিজিং ছাড়াও আরও কিছু পদ্ধতিতে মাংস সংরক্ষণ করা যায়। যেমন- আগে যখন রেফ্রিজারেটর ছিল না তখন গ্রামের গৃহবধূরা রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ করতেন। তবে বর্তমানে সেই পদ্ধতি প্রায় হারিয়ে গেছে। তারপরও এখনো কিছু এলাকায় স্বল্প পরিমাণ মাংস রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।

যেভাবে করা হয় এই মাংস সংরক্ষণ
হাড় ও চর্বি ছাড়া মাংস ছোট ছোট টুকরো করে লবণ ও হলুদ দিয়ে প্রথমে সিদ্ধ করতে হয়। পরে মাংসের পানি ঝড়িয়ে আবারও হলুদ ও লবণ মিশিয়ে সুই দিয়ে লম্বা সুতায় গেঁথে রোদে শুকানো হয়। এছাড়া বড় চালুনিতেও মাংস রেখে শুকানো যায়। এভাবে চার থেকে পাঁচদিন প্রখর রোদে রেখে দিলে মাংস সংরক্ষণের উপযোগী হয়ে যায়। পরে শুকনা মাংস প্লাস্টিকের বয়ামে অথবা ফ্রিজে রেখেও সংরক্ষণ করা যায়। তবে, প্লাস্টিকের বয়ামের রাখলে মাংস দুই থেকে তিন মাস পর বের করে ফের শুকাতে দিতে হয়। তা না করলে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এভাবে এক বছরেরও বেশি সময় মাংস সংরক্ষণ করা যায়।

হারিয়ে যাচ্ছে সুতায় গেঁথে-চালুনিতে মাংস শুকানো

আজ দেখা মিলল পুরনো আমলের পদ্ধতি অনুসরণ করা এমন একটি দৃশ্য। সেই লিপি আক্তার বলেন, এখন তো ফ্রিজ আছে, আমরা ফ্রিজে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ করি। তবে, আমাদের মা, চাচি ও শাশুড়িদের দেখেছি হাড় ও চর্বি ছাড়া মাংস হলুদ দিয়ে সিদ্ধ করে সুতায় গেঁথে ও চালুনিতে শুকাতে দিতো। চার থেকে পাঁচদিনেই মাংস শুকিয়ে যেত। পরে সেই শুকনা মাংস প্লাস্টিকের বয়ামে ভরে রাখতো। কিছুদিন পর পর বয়াম থেকে বের করে আবারও শুকাতে দিতো, যেন নষ্ট না হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এই শুকনা মাংস এক বছর বা তারও বেশি সময় সংরক্ষণ করা যেত কিন্তু নষ্ট হতো না। এই শুকনা মাংস দিয়ে অনেক ধরনের খাবার তৈরি করা হতো। শুকনা মাংস খেতেও খুব সুস্বাদু হতো।

তার স্বামী শুকনা মাংস খুব পছন্দ করতেন জানিয়ে লিপি আক্তার বলেন, তিনি শুকনা মাংস খুব পছন্দ করতেন। তিনি তো আর নেই। তাই এখন বেশি মাংস শুকানো হয় না। খুব অল্প পরিমাণ শুকাতে দিই ছেলেমেয়েদের জন্য। কিছুদিন পর পর রান্না করি, ভর্তা তৈরি করি। এগুলো খেতেও খুব সুস্বাদু হয়।

হারিয়ে যাচ্ছে সুতায় গেঁথে-চালুনিতে মাংস শুকানো

একই এলাকার বৃদ্ধা কুলসুম বেগম বলেন, আমিও খুব অল্প পরিমাণ মাংস শুকাতে দিয়েছি। মাংসের শুটকি দিয়ে ভুনা, ভর্তা এমনকী তাজা মাংস যেভাবে খাওয়া যায় সেভাবেও রান্না করা যায়।

আরেক গৃহবধু শিউলী আক্তার বলেন, এখন থেকে ১০ বছর আগেও যখন ফ্রিজ ছিল না, তখন আমরা প্রায় সব মাংস শুকিয়ে সংরক্ষণ করতাম। এখন তো ফ্রিজ চলে আসছে, তাই মাংস খুব বেশি শুকানো হয় না। তবে আমার ছেলে মাংসের শুটকি খুব পছন্দ করে। তাই অল্প পরিমাণ মাংস শুকাতে দিয়েছি।

একই এলাকার হামিদা খাতুন বলেন, মাংস ফ্রিজে রাখলে এর স্বাদ তাজা মাংসের মতো হয় না। তবে, শুটকি করে রাখলে এর স্বাদ ও গুণগত মান আমার কাছে একই রকম মনে হয়।

আজ আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমরা যেন আমাদের শেকড়ের কথা ভুলে না যাই সেজন্য সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। কারণ, আমরা দেখেছি মা, চাচি, শাশুড়ি মাংসের শুটকি তৈরি করেছে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো ভুলেই যাবে মাংসের শুটকি কী, এর স্বাদ কেমন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2022 Barta Samahar
Theme Customized By Theme Park BD